বাসর রাতে স্ত্রীর আঁচলে স্বামী নামায পড়বে কি?

0
86

বাসর রাতে স্ত্রীর আঁচলে স্বামী নামায পড়বে কি?

প্রশ্ন: বাসর রাতে স্ত্রীর আচলে স্বামী নামায পড়বেন। এটা কতটা যুক্তি যুক্ত ইসলামের দৃষ্টি কোণ থেকে? বিষয়টা বিস্তারিত তুলে ধরা হলে উপকৃত হব। জাযাকাল্লাহ।
প্রশ্ন করেছেন–জাবের বিন আবরাহাম।

উত্তর:  ﷺ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত নয়। স্ত্রীর শাড়ীর আঁচলে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার বিশেষ কোনো পদ্ধতি তো নয়ই। বরং এটাকে সুন্নাহ মনে করে করলে বিদআত হয়ে যাবে, যেহেতু এই পদ্ধতির কথা সালাফ থেকে কোথাও পাওয়া যায় নি। তবে সাহাবায়ে কেরাম থেকে এই রাতে বিশেষ পদ্ধতি ছাড়া শুধু দুই রাকাত নামায এবং কল্যাণ ও বারাকাতের দুআ প্রমাণিত আছে।

আবু উসাইদ এর আযাদকৃত গোলাম আবু সাঈদ বলেন: আমি গোলাম থাকা অবস্থায় বিয়ে করলাম এবং নবী কারীম ﷺ এর কয়েকজন সাহাবীকে দাওয়াত করলাম। তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ, আবু যর এবং হুযায়ফা (রা.)ও ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি তাদেরকে বললাম, আমাকে (আজকের করণীয় সম্পর্কে) শিক্ষা দিন। তারা বললেন:

إذا أدخل عليك أهلك فصل عليك ركعتين، ثم سل الله تعالى من خير ما دخل عليك، وتعوذ به من شره، ثم شأنك وشأن أهلك

“যখন তোমার ঘরে তোমার স্ত্রীকে প্রবেশ করানো হবে তখন তুমি দু-রাকাআত সালাত আদায় করো এবং তোমার ঘরে যে এসেছে আল্লাহর নিকট তার কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো। তারপর তুমি এবং তোমার স্ত্রীর যা করণীয় করো।” (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৩/৪০১ এবং মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৬/১৯১)

শাকীক (রহ.) বর্ণিত, এক লোক আব্দুল্লাহ (অর্থাৎ ইবনে মাসঊদ) এর নিকট আগমন করলেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) কে বললেন, আমি এক যুবতী মেয়ে বিয়ে করেছি। কিন্তু আমার আশংকা হচ্ছে, সে আমাকে অপছন্দ করবে (বা আমার প্রতি রাগ-গোস্বা করবে)।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ বললেন:

إن الإلف من الله، والفرك من الشيطان، يريد أن يكره إليكم ما أحل الله لكم، فإذا أتتك فمرها أن تصلي وراءك ركعتين

অর্থ: ভালোবাসা ও সুসম্পর্ক আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় আর ঘৃণা বা রাগ-গোস্বা হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। কারণ সে আল্লাহর হালাল করা বিষয়ে তোমাদের মাঝে ঘৃণা সৃষ্টি করতে চায়। সুতরাং তোমার স্ত্রী তোমার কাছে আসলে তাকে আদেশ করবে, সে যেন তোমার পেছনে দু রাকাআত সালাত আদায় করে। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৩/৪০২ এবং মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৬/১৯১, আদাবুয যিফাফ পৃষ্ঠা: ২৪]

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযি. বলেন, স্ত্রী স্বামীর কাছে গেলে স্বামী দাঁড়িয়ে যাবে এবং স্ত্রী তার পিছনে দাঁড়াবে। তারপর তারা একসঙ্গে দুই রাক‘আত নামায আদায় করবে এবং এই দুআ পড়বে:

اَللّهُمَّ بَارِكْ لِىْ فِىْ أَهْلِىْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِىَّ، اَللّهُمَّ اجْمَعْ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ بِخَيْرٍ و فَرِّقْ بَيْنَنَا إِذَا فَرَّقْتَ إِلَى خَيْرٍ

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দিন এবং আমার পরিবারের জন্য আমার মধ্যেও বরকত দিন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের থেকে আমাকে রিযিক দিন আর আমার থেকে তাদেরকেও রিযিক দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের যতদিন একত্রে রাখেন কল্যাণেই একত্রে রাখুন। আর আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলে কল্যাণের পথেই বিচ্ছেদ ঘটান।

[তাবারানী: ৮৯০০, মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৭৫৪৭, আদাবুয যিফাফ, পৃষ্ঠা: ২৪]

উপরোক্ত বর্ণনাসমূহ থেকে অনেক আলেম বাসর রাতে নতুন স্বামী-স্ত্রী কর্তৃক দু-রাকাত নামায আদায় করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। তাই দুই রাকাত নামায আদায় করা যায়।

জবাব প্রদান করেছেন মুফতী জিয়াউর রহমা।। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.